জেলার সংবাদ

ভৈরবে আগুনে পুড়ে ছাই হলো জেলের জমানো ২৫ লাখ টাকা

ভৈরব প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জনপদ শ্যামপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ সময় মাছ বিক্রি করে তিলে তিলে জমানো মোক্তার উদ্দিন নামের এক জেলের ২৫ লাখ টাকা পুড়ে গেছে। ছোট ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য ঘরের চালে একটি ড্রামের ভেতর টাকা রেখেছিলেন তিনি। সব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে শ্যামপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন আশপাশের কাঁচা ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

 

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় এবং ফায়ার সার্ভিসকে সময়মতো খবর না দেওয়ায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসী ও আশপাশের এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে ৫টি কাঁচা ঘর, ঘরের আসবাবপত্র এবং সমস্ত সহায়-সম্বল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

 

​জেলের পেশায় নিয়োজিত মোক্তার উদ্দিন। দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে মাছ বিক্রি করে প্রতিদিনের আয় থেকে অল্প অল্প করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল এই টাকা দিয়ে ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামকে মালয়েশিয়ায় পাঠাবেন এবং নতুন ঘর তুলবেন। কিন্তু আগুনে তার সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। আগুন লাগার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আধাপোড়া অবস্থায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি টাকা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন মোক্তার উদ্দিন ও তার স্ত্রী।
 
​যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। স্থানীয়রা সচেতন না থাকায় এবং ফায়ার সার্ভিস বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ তাৎক্ষণিক কল করতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

 

​সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া মোক্তার উদ্দিন ও তার পরিবার এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন