বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

ভৈরবে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৪০

ভৈরব প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এই সংঘর্ষ হয়।

বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুরো গ্রাম জুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার) মেরাজ মিয়া এবং সাবেক মেম্বার আবুল বাশারের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এ বিরোধ নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এরপর গত বুধবার স্থানীয়ভাবে একটি সালিশের মাধ্যমে ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও, শুক্রবার (১৫ মে) রাতে আবারও দুই পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

 

এরই জেরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। একপর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কিছু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ​​সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

 

আহতরা ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তবে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ​বর্তমান মেম্বার (ইউপি সদস্য) মেরাজ মিয়া বলেন, ​আমরা গত বুধবারের সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে শান্ত ছিলাম। কিন্তু সাবেক মেম্বার আবুল বাশারের লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য শুক্রবার রাত থেকে আমাদের লোকজনকে উসকানি দিতে থাকে। আমাদের এক লোক রাতে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে গেলে তাকে একা পেয়ে বাশারের লোকজন ঘিরে ধরে। পরে স্থানীয়দের সহয়তায় সে কোনো রকমে জীবন বাঁচিয়ে বাড়ি ফেরে। আজ (শনিবার) সকালে এই নিয়ে দরবার বসার কথা থাকলেও, তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও সুষ্ঠু বিচার চাই।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক মেম্বার আবুল বাশার বলেন, ​ফেসবুকের ঘটনাটি সালিশে মীমাংসা হওয়ার পরও বর্তমান মেম্বার মেরাজের সমর্থকরা ফেসবুক লাইভে এসে আমাকেসহ আমাদের লোকজনকে গালিগালাজ করে। তারা আমাদের দুটি ছেলেকে একা পেয়ে মারধর করে। রাতে এই নিয়ে ঝগড়া হলে আজ শনিবার সকালে দরবার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দরবার শুরুর আগেই মেরাজ মেম্বারের লোকেরা হঠাৎ লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

 

​​এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পাভেল মোল্লা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ​বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে গ্রামজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।  

 

ডিবিসি/ এইচএপি 

আরও পড়ুন