কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হোসনা বেগম (২২) নামের এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে ৩ যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। এ সময় ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৮টার দিকে পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া সরকারি হাজী আসমত কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃত তিন যুবক হলেন- পৌর শহরের উত্তরপাড়া গাছতলা ঘাট এলাকার শাহিন মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (২০), মুজিবুর মিয়ার ছেলে মুখলেছ মিয়া (২৮) এবং ইউনুস মিয়ার ছেলে রাতুল মিয়া (২০)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তি রাতে পাদুকা কারখানায় কাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন। রাত ২টার দিকে বাড়ির সামনের একটি হোটেলে খেতে যাওয়ার পথে তিনি ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। তিন ছিনতাইকারী তাকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা মোক্তারকে নিয়ে তার বাড়িতে যায়। সেখানে মোক্তারের মেয়ে পরশমণির বান্ধবী হোসনা বেগম অবস্থান করছিলেন। ছিনতাইকারীরা হোসনার কাছে টাকা পাওনার কথা বলে মধ্যরাতে তাকে সেখান থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর তারা ওই তরুণীকে সরকারি হাজী আসমত কলেজের পেছনের বালুর মাঠে একটি নির্জন জায়গায় আটকে রাখে।
ভুক্তভোগী মোক্তার হোসেন জানান, ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই হোসনাকে চিনত। অপহরণের পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি হোসনার পরিবারকে জানান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয় এবং তিন অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী হোসনা বেগম জানান, ওই তিন যুবক তার বড় ভাইয়ের বন্ধু। তারা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ও কিছু নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং সারারাত বালুর মাঠে নির্জন জায়গায় বসিয়ে রাখে। তবে এছাড়া তারা তার আর কোনো শারীরিক ক্ষতি করেনি।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শহরের গাছতলা ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় তিন অপহরণকারীকে আটক এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে হোসনার বড় ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটককৃতদের কিশোরগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ডিবিসি/ এইচএপি