কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বসতবাড়ির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যকার বিরোধের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন মনির মিয়া (২২) নামে এক যুবক। শুক্রবার (২২ মে) বিকালে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মনির মিয়া ওই এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ইজিবাইক (বিভাটেক) চালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জগমোহনপুর গ্রামের হাজী বাড়ির মৃত সফর উদ্দিনের দুই ছেলে মতিবুর রহমান ও তাজুল ইসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আজ শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি শালিস বৈঠক বসে। শালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বসতবাড়ির সীমানা মাপামাপির পর দেখা যায়, তাজুল ইসলাম তার ভাই মতিউর রহমানের সীমানার ভেতরে ৮ ইঞ্চি জায়গা পান। মাপজোখ শেষে তাজুল ইসলাম শালিসকারীদের উপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণের দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জায়গা হারানোর ক্ষোভে মতিউর রহমান আচমকা ঘর থেকে লাঠি নিয়ে এসে তার ভাই তাজুল ইসলামের ওপর চড়াও হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। বাপ-চাচার এই ঝগড়া ও মারামারি থামাতে গিয়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তাজুল ইসলামের ছেলে মনির মিয়া। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, মতিউরের সাথে আমার দীর্ঘদিন ধরে সীমানা নিয়ে ঝামেলা ছিল। আজ দরবারে মাপার পর আমি ওর বাড়ির ভেতরে ৮ ইঞ্চি জায়গা পাই। দরবারিদের সামনেই সে আমাকে ও আমার ছেলেকে মারধর শুরু করে। ওর মারধোরের আঘাতেই আমার ছেলেটা মারা গেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
নিহতের চাচাতো ভাই ফয়সাল মিয়া বলেন, আমার চাচাতো ভাই মনির খুব ভালো মানুষ ছিল। ইজিবাইক চালিয়ে সে জীবিকা নির্বাহ করত। দুই চাচার সীমানা নির্ধারণের দরবার চলাকালীন মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে আঘাত পেয়েই আমার ভাইটার অকাল মৃত্যু হলো।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, বসতবাড়ির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনায় মনির মিয়া নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ডিবিসি/ এইচএপি