জেলার সংবাদ

ভৈরবে পায়ে সাইকেল লাগার জেরে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে বৃদ্ধাকে হত্যা

ভৈরব প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কিশোরগঞ্জের ​ভৈরবে শিশু ছেলের সাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে রেহানা বেগম লিলি (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রেহানা বেগম লিলি পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার হাজী ধন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তার স্বামী মৃত সুরত আলী মিয়া। এই দম্পতির দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

 

​অন্যদিকে, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী রিমা বেগম একই এলাকার আনু মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। জাহাঙ্গীর স্থানীয় একটি মসলার মিলে চাকরি করেন এবং তার স্ত্রী রিমা বেগম সৌদি প্রবাসী। গত দুই মাস আগে তার স্ত্রী দেশে আসেন। তাদের ৫ বছরের আলিপ নামের একটি সন্তান রয়েছে।

 

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে নিহত বৃদ্ধা রেহানা বেগম লিলি নিজ ঘরের সামনে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ৫ বছরের শিশু ছেলে আলিফ উঠানে সাইকেল চালাচ্ছিল। একপর্যায়ে সাইকেলের চাকাটি বৃদ্ধার পায়ে বারবার উঠিয়ে দেয় শিশুটি। এতে বৃদ্ধা শিশুটিকে ধমক দেন। ​ধমক দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

 

এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী রিমা বেগম বৃদ্ধা রেহানা বেগমের ঘরে হামলা চালান এবং তাকে এলোপাতাড়ি বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে জখম করেন। আঘাতের পর বৃদ্ধা সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

​নিহত বৃদ্ধার বড় মেয়ে সৌরভী বলেন, আমার মা ঘরের সামনে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিল। আমাদের প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে সাইকেলের চাকা আমার মায়ের পায়ে লাগায়। এই সামান্য একটা বিষয় নিয়ে জাহাঙ্গীর আর তার বউ  রিমা আমাদের ঘরে ঢুকে আমার বৃদ্ধা মাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার মা হত্যার বিচার চাই। এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িতদের ফাঁসি চাই।

 

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত লিমন বোস বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন