জেলার সংবাদ

ভৈরবে প্রতিবেশীর কুকুরের খাওয়া বিস্কুট খেয়ে জলাতঙ্কে শিশুর মৃত্যু

ভৈরব প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিবেশীর পোষা কুকুরের ফেলে দেওয়া বিস্কুট খেয়ে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে রবিউল মিয়া নামে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথেই মারা যায় শিশু রবিউল।

 

​এ ঘটনায় শিশুটির মা রুনা বেগমও জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নিহত শিশু রবিউল কালিপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার মিজান মিয়ার ছেলে।

 

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন রবিউল নিজ বাড়ির সামনে খেলাধুলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী মুসা মিয়ার স্ত্রী তাদের পোষা কুকুরকে বিস্কুট খেতে দেয়। কুকুরটি অর্ধেক বিস্কুট খাওয়ার পর বাকি অংশ ফেলে রেখে যায়। শিশু রবিউল অজ্ঞতাবশত সেই বিস্কুটটি কুড়িয়ে খেয়ে ফেলে। এরপর থেকেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

​পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থ রবিউলকে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে জলাতঙ্কের টিকা (ভ্যাকসিন) না থাকায় তাকে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

 

পরে বুধবার (১৫ জুলাই) শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন।

 

ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদী এলাকায় মারা যায় রবিউল।

নিহতের বাবা মিজান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী মুসা মিয়ার পরিবার নিয়মিত বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় তাদের পোষা কুকুরকে খাবার দিত। এ বিষয়ে একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণেই আমার শিশু সন্তানটির প্রাণ গেল। ছেলের মৃত্যুর পেছনে দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। আমরা পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ডিবিসি/এসএস

আরও পড়ুন