কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিবাহিত ও অবিবাহিত যুবকদের মধ্যকার একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই বংশের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকালে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের তুলাকান্দি গ্রামের 'জুলার বাড়ি’ (বারিক চেয়ারম্যানের বাড়ি) ও ‘বাদুর শেখের বাড়ির’ লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে তুলাকান্দি এলাকার যুবকদের মধ্যে বিবাহিত বনাম অবিবাহিতদের ওই ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। খেলার ফলাফল নিয়ে মাঠেই দুই কিশোরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও দুই পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর জেরে শুক্রবার রাতেই বাজার থেকে ফেরার পথে বাদুর শেখ বাড়ির নীল মিয়াকে জুলার বাড়ির লোকজন মারধর করে।
এই ঘটনার পর নীল মিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোয়াজ্জেম মিয়া (৫৫), সেলিম মিয়া (৪০) ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের জের ধরে শনিবার বিকালে জুলার বাড়ির এক যুবককে পাল্টা মারধর করে বাদুর শেখের বাড়ির লোকজন। এরপরই উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের প্রাথমিক অবস্থায় ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে গুরুতর আহত সেলিম মিয়া, দুলাল মিয়া, মগল মিয়া, আলাল মিয়া ও সুমনের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, শুক্রবারের তুচ্ছ ঘটনার বিরোধের জেরে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিবিসি/আরএসএল