কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাসের ভাড়া নিয়ে চালক ও যাত্রীর মধ্যকার বাগবিতণ্ডা রূপ নিয়েছে এক ভয়াবহ সংঘর্ষে। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলমান এই সহিংসতায় বেশ কিছু দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৮ জুন) ভৈরব দুর্জয় মোড় এলাকায় এক যাত্রী দুই নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করতে আসেন। সে সময় ভাড়ার টাকা নিয়ে কমলপুর এলাকার মাইক্রোবাস চালক পলাশের সঙ্গে ওই যাত্রীর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এই ঘটনার জের ধরে গত সোমবার থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সেই উত্তেজনার সূত্র ধরেই আজ বুধবার বিকেলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং তা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এলাকায় একে অপরের ওপর চড়াও হয়।
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ চলাকালে মহাসড়ক সংলগ্ন বেশ কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। একই সময়ে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ভয়াবহ এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশি তৎপরতা সত্ত্বেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ডিবিসি/টিবিএ