কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সহপাঠীদের সাথে মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকে আহসান মিয়া নামে ৭ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত আহসান মিয়া গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের মগাবাড়ির পাদুকা ব্যবসায়ী নাসির আহমেদের ছেলে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে উপজেলার বাঁশগাড়ি এলাকার একটি মাঠে সহপাঠীদের সাথে ফুটবল খেলতে যায় শিশু আহসান। প্রখর রোদ ও অতিরিক্ত গরমের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ খেলার একপর্যায়ে সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় তার সহপাঠীদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে দ্রুত উদ্ধার করেন।
প্রথমে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পৌর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুর চাচা বাদল মিয়া জানান, আমার ভাতিজা প্রখর রোদে মাঠে সহপাঠীদের নিয়ে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল। খেলার সময়ে হঠাৎ অসুস্থ হলে আমরা স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরহাদ আহমেদ বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঘটনা সাধারণত কম দেখা যায়, তবে তীব্র রোদ ও অতিরিক্ত গরমে সব বয়সি মানুষেরই হিটস্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শিশুটির প্রাথমিক লক্ষণ দেখে ধারণা করা হচ্ছে তীব্র গরমের কারণে তার হিটস্ট্রোক হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে, যার মধ্যে শিশু ও বয়স্করাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সবাইকে সরাসরি রোদ ও গরম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ পানি, ডাব, খাবার স্যালাইন ও লেবুর শরবত খাওয়ার ওপর জোর দিতে হবে।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন