কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাসিদ মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে মুখে বিষাক্ত স্প্রে করে এবং নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শ্রীনগর গ্রামের মুন্সি বাড়ির রাশিদ মিয়ার সাথে একই বংশের আক্কাছ মিয়ার ছেলে মামুনগংদের ৯ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে মামলা চলছে। গত এক সপ্তাহ আগে বাজিতপুর দেওয়ানী আদালত ওই জমিতে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মামুন মিয়া ভৈরব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে ওই জমি বিক্রি করতে যান। খবর পেয়ে রাশিদ মিয়া আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সাব-রেজিস্ট্রারকে অবগত করলে জমি রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জমি বিক্রি বন্ধ হওয়ার কিছুক্ষণ পর রাশিদ মিয়ার ভাই হাসিদ মিয়া জরুরি কাজের জন্য দুটি ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিজ বাড়ি শ্রীনগর থেকে ভৈরবে আসছিলেন। পথে মামুন ও তার দলবল হাসিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা প্রথমে হাসিদের মুখে বিষাক্ত স্প্রে করে এবং পরে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মৃত ভেবে সড়কের পাশে কাদার মধ্যে ফেলে রেখে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হুমায়ুন মিয়া জানান, তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে দোকানে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষদের হাসিদ মিয়াকে মুখে স্প্রে করে মারধর করতে এবং সড়কের পাশে কাদায় ফেলে দিতে দেখেন। পরে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত হাসিদ মিয়ার বড় ভাই রাশিদ মিয়ার দাবি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি বিক্রি করতে না পেরে মামুন ও তার লোকজন এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে এবং হাসিদের কাছে থাকা ৭ লাখ টাকাও ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীনগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য কুলসুম বেগমও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মূল অভিযুক্ত মামুন মিয়ার ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজেকে মামুন নন বলে দাবি করে ফোন কেটে দেন।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. কাইয়ুম মিয়া জানান, বিকেলে হাসিদ মিয়া নামে এক রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মুখে স্প্রে করার কারণে কালো দাগ পড়ে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, ঘটনাটি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিবিসি/টিবিএ