জেলার সংবাদ

ভৈরবে রেলওয়ে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অভিযোগের সংবাদ প্রচারের পর ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

ভৈরব প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশন এলাকায় একটি অসাধু সিন্ডিকেটের যোগসাজসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বিদ্যুতের অবৈধ বাণিজ্য। মিটারবিহীন শত শত বাসা ও দোকানে অবাধে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অনিয়ম ও দুর্নীতির এই ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকা রেলওয়ে বৈদ্যুতিক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী কার্য প্রকৌশলীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা যায়, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ, ভৈরব-নরসিংদীর খানাবাড়ি ও ভৈরব-আশুগঞ্জ এলাকার রেলওয়ে কলোনিতে রয়েছে কয়েকশ আবাসিক কোয়ার্টার। এসব কোয়ার্টারের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক) মোহাম্মদ আল মামুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভৈরব রেলওয়ের নিজস্ব কোয়ার্টার, ফেরিঘাট কলোনি, চন্ডিবের কলোনি ও সুইপার কলোনি এলাকায় মিটারবিহীন বিভিন্ন বাড়িতে ফ্যান ও লাইটের পাশাপাশি ফ্রিজ, টিভি ও হিটারের মতো উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এসব অবৈধ সংযোগ প্রদান করেছেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল মামুন।

 

এছাড়া আরও জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে ভৈরবে কর্মরত এই প্রকৌশলী একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এর মধ্যে ২০২৪ সালে আখাউড়ায় কয়েক মাস দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পুনরায় ভৈরবে যোগদান করে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সিন্ডিকেটের লাইনম্যান মনিরের মাধ্যমে প্রতিটি অবৈধ সংযোগ থেকে মাসোহারা হিসেবে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত তোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এমনকি তার অনিয়মের প্রতিবাদে অফিসের কর্মচারীরাও তার অধীনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। তবে রহস্যজনক কারণে নানা উপায়ে ম্যানেজ করে তিনি এখনো ভৈরবেই বহাল তবিয়তে কর্মরত আছেন।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী শাকের আহমেদ জানান, রেলওয়ের বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের বিষয়ে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি যেকোনো সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে এবং প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন