আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নির্বাচনি কাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সদস্যদের দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরাসরি ভোটকেন্দ্রে ক্যাডেট মোতায়েনের কথা থাকলেও, সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কমিশন। সংশোধিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের পরিবর্তে এখন কেবল পোস্টাল ব্যালট গণনা কেন্দ্র এবং ইসি সচিবালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষার কাজেই ক্যাডেটদের নিয়োজিত করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংশোধিত পরিপত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে ভোটগ্রহণের দিন ক্যাডেটরা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন না।
ইসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট (ওসিভি ও আইসিপিভি) গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ক্যাডেটরা কাজ করবেন। এছাড়া নির্বাচনের আগের দিন, অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ‘ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে’ ৫টি সেকশন শৃঙ্খলা রক্ষার বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে।
বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েনের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে: ১. সর্বোচ্চ ৩টি নির্বাচনি এলাকার জন্য ১টি করে সেকশন বরাদ্দ থাকবে। প্রতি সেকশনে ১ জন করপোরাল ও ১০ জন ক্যাডেট থাকবেন। ২. ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার জন্য মোট ১২৩টি সেকশন বিএনসিসি সদস্য মোতায়েন করা হবে। ৩. এর বাইরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ও পরিস্থিতি প্রতিবেদন সংগ্রহ কেন্দ্রের জন্য আলাদা ৫টি সেকশন নিয়োজিত থাকবে।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নিয়োজিত ক্যাডেটরা ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিয়োজিত সদস্যরাও ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে চূড়ান্ত বেসামরিক ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন।
ক্যাডেটদের নিয়োগ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ইসি বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
নির্বাচনি দায়িত্ব দেওয়ার আগে বিএনসিসি ক্যাডেটদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা কড়াকড়িভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।
বিএনসিসির রেজিমেন্ট কমান্ডাররা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে সমন্বয় করে মোতায়েন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন।
দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো ক্যাডেট নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিংবা গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো প্রকার প্রচারণায় বা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
দায়িত্ব পালনের আগে ক্যাডেটদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। রেজিমেন্ট কমান্ডাররা রিটার্নিং অফিসার এবং সিনিয়র জেলা বা উপজেলা নির্বাচন অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। বিএনসিসি ক্যাডেটদের দায়িত্ব পালনের যাবতীয় ব্যয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট থেকে বহন করা হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসি সচিবালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে এই সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিবিসি/এএমটি