রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গত রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই সেনাবাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নেমেছে এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা নির্বাচনী এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন।
এবারের নির্বাচনে মোট আট লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য, পুলিশের এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়াও মাঠে থাকছেন বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন এবং র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ সদস্য। জরুরি সেবা নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্যও প্রস্তুত রয়েছেন। নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো সেনাবাহিনীর ক্ষমতায়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার। আগে সেনাসদস্যরা কেবল ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে থাকলেও এবার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের ফলে তারা অন্যান্য বাহিনীর মতোই ভোটকেন্দ্রের ভেতরে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা বা ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। নজরদারির জন্য ডিজিটাল ‘সুরক্ষা’ অ্যাপ, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডগ স্কোয়াডও ব্যবহার করা হবে।
পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, সারা দেশে ১৬ হাজার ৩৫৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরীতেই রয়েছে ৩৭টি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার কেন্দ্রগুলোতেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি ও জরুরি সরঞ্জাম পরিবহনে হেলিকপ্টার ও ড্রোন নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। বিশেষ করে ভোলার মতো উপকূলীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে তারা। অন্যদিকে সীমান্তে চোরাচালান, অস্ত্রপাচার ও সহিংসতা রোধে বিজিবির এক হাজার ২১০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। তারা হেলিকপ্টার ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ৬৪টি জেলার ৪৮৯টি উপজেলায় টহল দিচ্ছে এবং কুইক রেসপন্স টিমকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিবিসি/এফএইচআর