আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে এখন সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলাজুড়ে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আজ (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ টহল ও যৌথ মহড়া শুরু হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সীমান্তবর্তী এই জেলাটিতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা অস্ত্র চোরাচালান রোধে বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি উপজেলায় একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।
লালমনিরহাটের ৩টি সংসদীয় আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৬ জন। জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্গম চরাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বেশ কিছু কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে লালমনিরহাট-১ আসনের ৪৬টি, লালমনিরহাট-২ আসনের ৩৮টি এবং লালমনিরহাট-৩ আসনের ৩০টি কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা, নদী তীরবর্তী দুর্গম এলাকা এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান যে, বর্তমানে ভোটের পরিবেশ উৎসবমুখর রয়েছে। ভোটাররা যাতে কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিবিসি/টিবিএ