রাজনীতি, জেলার সংবাদ

ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৩০

ভোলা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ১৫ই ডিসেম্বর ২০২৫ ০৬:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

সোমবার (১৫ই ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে চরফ্যাশনের জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকে জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে জামায়াত নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহত জামায়াত কর্মীদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ফের সংঘর্ষ বাধে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মীর শরীফ হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, "সকালে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. জামাল উদ্দিনকে তার দোকান থেকে ধরে নিয়ে মারধর করেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তিনি গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স আটকে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর আরেক দফা হামলা চালানো হয়। এতে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. সালাহউদ্দিন, জিন্নাগড় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি ডা. মোশারেফ হোসেন, পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও গণমাধ্যমকর্মী মো. রাফসানসহ ২০-২৫ জন আহত হন।"

 

তিনি আরও জানান, আহতদের চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে সেখানেও বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত ৫ জনকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ২ জনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় চরফ্যাশন থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মালতিয়া বলেন, "ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে চরফ্যাশনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সেসব চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে যদি জামায়াত মাঠে নামতে চায়, তবে বিগত দিনে নির্যাতিত আমাদের ছেলেদের ক্ষুব্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। তারা তো বাধা দেবেই। এখন জামায়াত যদি আওয়ামী লীগকে নিজেদের দলের লোক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে চায়, তাহলে তা আমাদের জন্য দুঃখজনক।"

 

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, "আওয়ামী লীগের লোকজন অনুপ্রবেশ করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। ওই জামাল উদ্দিন আগে আওয়ামী লীগ করতেন এবং আওয়ামী লীগের আমলে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করেছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের হাতাহাতি হয়েছিল। পরে চরফ্যাশন উপজেলা শহর থেকে ২০-৩০টি মোটরসাইকেলে করে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের ৮-১০ জন আহত হয়েছেন, তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।"

 

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, "সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

 

ডিবিসি/কেএলডি

আরও পড়ুন