বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

ভোলায় মৃত শিক্ষকের নামে ২০ বছর ধরে বেতন তোলার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

ভোলা ‍প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নামের মিল থাকার সুযোগ নিয়ে ২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের নামে বেতন তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

২০০৫ সালে তজুমদ্দিনের মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার জুনিয়র শিক্ষক মহিউদ্দিন মারা গেলেও ওই শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে অবৈধভাবে বেতন তোলা হচ্ছে। এছাড়াও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ারও অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে।

 

সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানির পর মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন মাদ্রাসার সুপার নুরুজ্জামান। এ ঘটনায় গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে সুপারের দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তজুমদ্দিনের মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মহিউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যার ইনডেক্স নম্বর ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নং ৪৬০৬। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তার মৃত্যু হলে তার পদটি শূন্য হয়। এর পর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও জামায়াত নেতা মো.মহিউদ্দিন ২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর বিধি বহির্ভূত ভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তার পিতা আছমত আলী মহাজন, ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২, ব্যাংক হিসাব নং ৪৫৭৭।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পর তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি বহির্ভূতভাবে পূর্বের ইনডেক্স ব্যবহার এবং নামের মিল থাকায় মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন অভিযুক্ত শিক্ষক মহিউদ্দিন। এদিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নিলেও বেতন ভোগ করছেন জুনিয়র শিক্ষক পদের। এছাড়া ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমপিও সিটে মহিউদ্দিনের ইনডেক্স এর বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ৪৬০৬ পাওয়া যায় এবং জালিয়াতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

 

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিন বলেন, উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। হিসাব নম্বর এক হলেও ওই একাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি। এছাড়া আমি নিয়োগ প্রাপ্তিকালেও কোনরকম তথ্য গোপন করিনি। নিজে নিজে বেতনের টাকা তোলার এখতিয়ার কী আমার আছে? বেতন ইস্যু করেন মাদরাসা সুপার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ও সভাপতি।

 

তিনি আরও বলেন, সমস্যাটির সমাধানের জন্য মাদরাসা সুপার ২০১৮ সালে আমার কাছে ৫লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি তাকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছি, কিন্তু সমস্যার সমাধান করেননি। পরে আমি তাকে দেওয়া ৩ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ার কারণেই তিনি আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন। আমি বিচার চাই।

 

মোহাম্মদিয়া ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদরাসা সুপার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসার এমপিও সিটে ৬০২৭৮২ ইনডেক্স বিপরীতে ৪৬০৬ নম্বর একাউন্টে সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনের নাম রয়েছে। আমি মাদরাসায় সুপারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি অবগত হয়ে নানা কারণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানাতে বিলম্ব হয়েছে। তবে মহিউদ্দিনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

 

তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, গুরুত্ব সহকারে অভিযোগগুলো তদন্ত করে তদন্ত রিপোর্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে এখনো তদন্ত চলমান।

 

জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারী কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগের পরিপেক্ষিতে তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল (সোমবার) তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় মাদরাসা সুপার সরাসরি জড়িত, তিনি মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধেও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন