স্বামীসহ পরিবারের সবাই পলাতক

ভোলায় যৌতুকের মোটরসাইকেল না পেয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দিতে না পারায় ফিমা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী সজিবসহ তার পরিবারের সব সদস্য পলাতক রয়েছেন।

নিহত ফিমা আক্তার জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে দৌলতখানের কলাকোপা গ্রামের সজিবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই একটি মোটরসাইকেলের জন্য ফিমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। প্রায় দেড় বছর আগে স্বামী সজিব মোটরসাইকেল দাবি করলে ফিমার পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে তা দিতে পারেনি। এরপর থেকেই ফিমার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

 

নিহতের মা তাছনুর বেগম মেয়ের মরদেহের পাশে আহাজারি করে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, মোটরসাইকেল দিতে পারিনি। তাই তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে।’ নিহতের ভাই মো. শিপন জানান, ঈদের দিন রাতেও ফিমা তার মা ও ছোট বোনের সঙ্গে ফোনে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে। কিন্তু রাত চারটার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয় ফিমা অসুস্থ। সকালে গিয়ে তারা ঘরের মেঝেতে বোনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন, তবে সে সময় ওই বাড়িতে কেউ ছিল না।

 

পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং নিহতের নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন