ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলার চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনই জামানত হারিয়েছেন। জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনডিএমসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর চারটার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান নিজ কার্যালয়ের হলরুমে বেসরকারিভাবে এই ফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে থাকে।
ভোলা-১ (সদর) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ১৮১। এই আসনে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৩৩৭ ভোট। তবে এই আসনে ছয়জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী, গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান জুয়েল মিয়া, জাতীয় পার্টির মো. আকবর হোসাইন, এনপিপির মো. মিজানুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওবায়দুর রহমান।
ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে মোট প্রদত্ত ২ লাখ ২১ হাজার ৬২২ ভোটের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা মুফতি ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭০৩ ভোট। এখানে জামানত হারানো ছয়জন প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাছলিমা বেগম, স্বতন্ত্র মহিব্যুল্লাহ খোকন, এলডিপির মোকফার উদ্দিন চৌধুরী, আমজনতার দলের আলাউদ্দিন ও মো. জাকির হোসেন খন্দকার।
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৯০১টি। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯০ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী মুহা. নিজামুল হক পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৩৫১ ভোট। এ আসনে গণঅধিকার পরিষদের আবু তৈয়ব, জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মোসলেহ উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহসহ চারজন প্রার্থী জামানত হারান।
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ৬০৯। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩৭ ভোট। এখানে প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন পাঁচজন। তাঁরা হলেন এনডিএমের আবুল কালাম, স্বতন্ত্র মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, আমজনতার দলের মো. জালাল উদ্দীন রুমি, জাতীয় পার্টির মো. মিজানুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন। ভোলার চারটি আসনেই বিজয়ী প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জামানত হারানোর ঘটনায় নির্বাচনের ফলাফলে একধরনের একপেশে চিত্র ফুটে উঠেছে।
ডিবিসি/এনএসএফ