বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

ভোলায় মিথ্যা অপবাদে নারী-পুরুষকে হেনস্তার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

ভোলা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলায় অনৈতিক কাজের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক মাঝবয়সী নারী ও পুরুষকে নির্মমভাবে মারধর এবং প্রকাশ্যে গলায় জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার পর পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অপরাধে এক সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বখাটেরা।

এ ঘটনায় সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভুক্তভোগী মাহে আলম মাঝির দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. সজিব, মো. রাকিব হোসেন ভুট্টু, মো. রায়হান, মো. রাশেদ।


সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, সোনাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চাপড়ি গ্রামের আনন্দ বাজার এলাকায় এক নারী ও পুরুষকে একদল যুবক প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করছে। এ সময় আশপাশে অর্ধশতাধিক উৎসুক মানুষ দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন এবং কেউ কেউ মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে হেনস্তাকারীরা ওই নারী-পুরুষকে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার শর্তে কান ধরিয়ে শপথ করায়।


অনুসন্ধানে জানা যায়, হেনস্তার শিকার পুরুষ মাহে আলম মাঝি সোনাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি আবাসন এবং ভুক্তভোগী নারী একই ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তারা দুজন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নুসরাত বেগমের স্বামী মো. শহিদুল্লাহর বাসায় যান।


ভুক্তভোগী নারী জানান, তার স্বামী বর্তমানে একটি মামলায় কারাগারে আছেন। মামলার খরচ চালানোর জন্য টাকা ধার নিতে তিনি শহিদুল্লাহর বাসায় গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মাহে আলম মাঝি গিয়েছিলেন জমি সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে কথা বলতে। ঘটনার সময় শহিদুল্লাহ বা তার স্ত্রী ইউপি সদস্য কেউই বাসায় ছিলেন না। ঘরে কেবল শহিদুল্লাহর বৃদ্ধ মা ও বোন ছিলেন।


তারা দুজন ঘরে অবস্থান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় বখাটে যুবক সজিব ও জুয়েলের নেতৃত্বে একদল যুবক ঘরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। কোনো কিছু না শুনেই তারা অনৈতিক কাজের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ওই নারী ও পুরুষকে বেধড়ক মারধর করে। পরে তাদের টেনে-হিঁচড়ে আনন্দ বাজারে নিয়ে শতাধিক মানুষের সামনে জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হয়। উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী দুজনেরই বয়স ৬০ বছরের কাছাকাছি।


ইউপি সদস্যের স্বামী মো. শহিদুল্লাহ অভিযোগ করেন, সোমবার বিকেলে তজুমুদ্দিন থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে তার বাড়িতে আসে। পুলিশ চলে যাওয়ার পর, তাদের তথ্য দেওয়ার অভিযোগে রাত ১২টার দিকে ছালেম মাঝির ছেলে জুয়েলের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বর্তমানে সপরিবারে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


শহিদুল্লাহ আরও জানান, সজিবসহ এই চক্রটি এলাকায় রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। কোরবানির ঈদের আগেও তারা এক যুবককে কোমরে রশি বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর করেছিল।


তজুমুদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং জড়িত চারজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী মাহে আলম মাঝি বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আটককৃতদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ইউপি সদস্যের বাড়িতে হামলার বিষয়ে ওসি জানান, বিষয়টি তারা মৌখিকভাবে শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন