বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইবোলার বর্তমান ধরনটির (বুন্দিবুগিও) বিরুদ্ধে কার্যকর একটি টিকা প্রস্তুত হতে ৯ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) ও প্রতিবেশী উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাবক ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সংস্থাটি। তবে ডব্লিউএইচও-এর জরুরি কমিটির বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
বুধবার (২১ মে) জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডব্লিউএইচও প্রধান ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রেইয়াসুস জানান, এখন পর্যন্ত ৬০০ জন সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী পাওয়া গেছে এবং ১৩৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে ভাইরাসটি শনাক্তে সময় লাগায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে ডিআর কঙ্গোর ইতুরি (প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল) ও উত্তর কিভু প্রদেশে ৫১ জনের শরীরে এবং উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় দুজনের শরীরে ভাইরাসটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। উগান্ডায় আক্রান্ত দুজনই কঙ্গো থেকে গিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে এই মহামারির ঝুঁকি উচ্চ হলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে তা এখনো কম।
ডব্লিউএইচও-এর উপদেষ্টা ড. ভ্যাসি মুর্তি জানিয়েছেন, ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য দুটি টিকা নিয়ে কাজ চলছে, তবে সেগুলোর কোনোটিই এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর্যায়ে যায়নি। এদিকে, ডিআর কঙ্গোতে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি উল্লেখ করে ডব্লিউএইচও প্রধান জানান, বেশ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি তাদের জন্য বিশেষ উদ্বেগের।
স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। কর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী (পিপিই) পৌঁছাতে শুরু করলেও তারা এখনো পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করছেন। দাতব্য চিকিৎসা সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স-এর (এমএসএফ) ইমার্জেন্সি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ট্রিশ নিউপোর্ট এএফপিকে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সন্দেহভাজন রোগীতে এতটাই পূর্ণ হয়ে গেছে যে সেখানে নতুন রোগী রাখার আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সরকার ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) পাউন্ড সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থ সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগ নজরদারির কাজে ব্যয় করা হবে। ডব্লিউএইচও-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাইরাসটি ঠিক কত দিন ধরে ছড়াচ্ছে তা জানতে তদন্ত চলছে, তবে আপাতত সংক্রমণ রোধ করাকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এফএইচআর