চুয়াডাঙ্গার ঘটনা

মদের কাছে হার মানল চিনি! কেরুর রেকর্ড মুনাফা ১৬৫ কোটি টাকা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চিনি উৎপাদনে লোকসান যেন কেরু অ্যান্ড কোম্পানির দীর্ঘদিনের নিত্যসঙ্গী। অথচ আখের উপজাতনির্ভর অন্যান্য ইউনিটের সাফল্যে একের পর এক মুনাফার রেকর্ড গড়ছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও মুনাফার নতুন রেকর্ড গড়েছে।

কেরুর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লাভ-ক্ষতির হিসাব অনুযায়ী, সব ইউনিট মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে করা প্রতিষ্ঠার পর সর্বোচ্চ ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নিট মুনাফার রেকর্ডও ভেঙেছে প্রতিষ্ঠানটি।


তবে মুনাফার এই চিত্রের উল্টো পিঠে রয়েছে চিনি কারখানা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্ভাব্য হিসাবে চিনি কারখানায় লোকসান দেখানো হয়েছে ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ চিনি উৎপাদনে বড় অঙ্কের লোকসান থাকলেও অন্যান্য ইউনিটের আয়েই সামগ্রিকভাবে মুনাফার মুখ দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।


কেরুর মুনাফার মূল চালিকাশক্তি ডিস্টিলারি ইউনিট। এ ইউনিটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লাভ দেখানো হয়েছে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি বায়ো-ফার্টিলাইজার ইউনিটে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা, বাণিজ্যিক খামারে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার টাকা, আকন্দবাড়িয়া ইউনিটে ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা লাভ দেখানো হয়েছে।


চিনি কারখানার ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান সমন্বয়ের পরও সব ইউনিট মিলিয়ে কেরুর নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।


এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা নিট মুনাফা করে। ওই বছরও প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এটিই ছিল সর্বোচ্চ মুনাফা। সে বছর চিনি বিভাগে লোকসান হয়েছিল ৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বিপরীতে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকেই লাভ এসেছিল ১৯০ কোটি ২৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেরুর নিট মুনাফা ছিল ১১২ কোটি ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা। সে বছর চিনি শিল্পে লোকসান হয়েছিল ৬০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় নিট মুনাফা বেড়েছিল ১৭ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।


এবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নিট মুনাফা এক লাফে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাত্র দুই অর্থবছরের ব্যবধানে কেরুর নিট মুনাফা ১১২ কোটি টাকার ঘর থেকে বেড়ে ১৬৫ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।


প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফা বাড়লেও চিনি কারখানার ধারাবাহিক লোকসান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লোকসানের পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্ভাব্য হিসাবেও চিনি বিভাগে ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান দেখানো হয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চিনি কারখানার লোকসানের পেছনে পুরোনো যন্ত্রপাতি, আখের মান, কম রিকভারি রেটসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। অন্যদিকে ডিস্টিলারি ও অন্যান্য উপজাতভিত্তিক ইউনিটের আয়ই কেরুর সামগ্রিক মুনাফাকে শক্তিশালী করছে।


দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনি ও ডিস্টিলারি কারখানা স্থাপিত হয় ১৯৩৮ সালে। দৈনিক ১ হাজার টন আখ মাড়াই এবং ১৮ হাজার প্রুফ লিটার স্পিরিট উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে চিনি, ডিস্টিলারি, ওষুধ, কৃষি খামার ও জৈবসারসহ বিভিন্ন ইউনিট নিয়ে এটি একটি বড় শিল্প কমপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে।


কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বির হাসান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর কেরুর বিভিন্ন ইউনিট থেকে বেশি মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। চিনি শিল্পের লোকসানও কিছুটা কমেছে। আগামীতে লোকসান আরও কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি।


ডিবিসি/এসভিএন
 

আরও পড়ুন