আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের পর থেকে গত নয় দিনে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তেহরানের পাল্টা প্রতিশোধ এবং লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এই অঞ্চলে ১,৭০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু ইরানে নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মার্কিন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা HRANA-এর তথ্যমতে, ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১,২০৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯৪ জনই শিশু। এছাড়া দেশটির সামরিক বাহিনীর আরও ১৮৭ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
অন্যদিকে, সোমবার (২ মার্চ) থেকে লেবাননে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে পরিস্থিতি শোচনীয় হয়ে পড়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে সেখানে অন্তত ৪৮৬ জন নিহত এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ট্যাঙ্কের গুলিতে একজন পুরোহিত নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। বিপরীতে, হিজবুল্লাহর সাথে লড়াইয়ে দক্ষিণ লেবাননে দুইজন ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
আঞ্চলিক এ সংঘাতের ঢেউ আছড়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ১৩ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন ইরানি কুর্দি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। কুয়েতে মার্কিন ও কুয়েতি সেনাসহ অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ওমান উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় আরও বেশ কিছু বেসামরিক ও সামরিক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে ওমান উপকূলে এক ভারতীয় এবং দুবাইতে এক পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম (এমডিএ) জানিয়েছে, বেইত শেমেশ শহরে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জনসহ ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/এএমটি