জাতীয়

মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ১০ জাহাজ

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও স্বস্তির খবর দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। যুদ্ধ পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই পারস্য উপসাগর ও বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পৌনে ৪ লাখ টন তেল-গ্যাস নিয়ে ১০টি জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছাতে শুরু করেছে।

বন্দর ও শিপিং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই ১০টি জাহাজের মধ্যে ৪টিতে এলএনজি, ২টিতে এলপিজি এবং বাকি ৪টিতে ডিজেল, কনডেনসেট ও ফার্নেস অয়েল রয়েছে।


চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, কাতার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে আল জোর ও আল জাসাসিয়া জাহাজ দুটি ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া সোমবার লুসাইল এবং বুধবার আল গালায়েল নামের আরও দুটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই চারটি জাহাজে মোট এলএনজির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন।


অন্যদিকে, ওমানের সোহার বন্দর থেকে ৪১ হাজার ৪৮৮ টন এলপিজি নিয়ে আসছে সেভান ও জি ওয়াইএমএম নামের দুটি জাহাজ। এর মধ্যে একটি আজ রবিবার (৮ মার্চ) বন্দরে পৌঁছানোর কথা। তবে বিপত্তি বেঁধেছে লিব্রেথা নামের একটি জাহাজ নিয়ে, যা বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা পড়ে আছে।


দেশে ডিজেলের মজুদ নিয়ে যখন দুশ্চিন্তা বাড়ছে, তখন ৩১ হাজার টন ডিজেল নিয়ে এসপিটি থেমিস ১২ মার্চ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ১৪ হাজার টন কনডেনসেট এবং সিঙ্গাপুর থেকে ৪০ হাজার টন ফার্নেস তেল নিয়ে আরও তিনটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পারস্য উপসাগরের এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির বড় অংশ ইরাক, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করে, যাদের পণ্য পরিবহনে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার অপরিহার্য।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে যে জাহাজগুলো আসছে সেগুলো যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে প্রণালি পার হতে পেরেছিল। ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম বলেন, "বর্তমান চালানগুলো পৌঁছানো নিশ্চিত হলেও পরবর্তী পর্যায়ের আমদানি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।"


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে খোলাবাজার থেকে চড়া দামে দুই জাহাজ এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার থেকেই জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমদানির বিকল্প উৎস বা বিকল্প পথ খোঁজা ছাড়া উপায় থাকবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন