আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্য সংকট কাটাতে ইরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং আটকে থাকা কূটনীতি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি।

সংঘাত পরিস্থিতি আপাতত শান্ত থাকলেও দৃশ্যমান কোনো কূটনৈতিক সমাধানের দেখা মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ওয়াশিংটনের নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণার পরই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের এই উদ্যোগ সামনে এলো। কাতার শুরু থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে নেপথ্য যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে এবং গত জুনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতেও তাদের সরাসরি ভূমিকা ছিল।

 

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হলো বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই প্রণালীটিকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫০ লাখে। প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর দাবি করলেও, ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে চুক্তির বিস্তারিত দিক নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

বর্তমানে সংঘাতের রণক্ষেত্রে অনেকটা স্থবিরতা বিরাজ করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড প্রায় এক মাস ধরে ইরানের ওপর কোনো হামলার খবর দেয়নি। এর বদলে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের ওপর সামরিক চাপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, প্রণালীতে নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি বা প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এখনো তেহরানের রয়েছে। উল্লেখ্য, এই সংঘাতে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালীতে ৭০টি ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৯ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরান ও লেবাননে প্রাণ হারিয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কাতারের মুখপাত্রের তথ্যমতে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী তার সফরে হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধপূর্ববর্তী স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবেন। একই সঙ্গে উত্তেজনা হ্রাস এবং কার্যকর সংলাপের পরিবেশ তৈরির বিষয়েও কথা বলবেন তিনি। তবে আইআরজিসি জানিয়েছে, গত জুনে ভেস্তে যাওয়া সমঝোতার শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র পূরণ না করা পর্যন্ত প্রণালীটি বন্ধই থাকবে। তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন