বিধানসভায় পরিষদীয় দল আগেই হাতছাড়া হয়েছে। এবার লোকসভাতেও তৃণমূলের সংসদীয় দল হাতছাড়া হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতাকে ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূলে বিদ্রোহী শিবিরে।
জোড়াফুলের এই ২০ সাংসদ এর পর যোগ দিতে চাইছেন কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে। বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। বিদ্রোহীরা সোমবার চিঠিও পাঠিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে।
যে সংখ্যক সাংসদ বিদ্রোহী হয়েছেন, তাতে লোকসভায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদক্ষেপের দাবি তোলা সম্ভব নেই তৃণমূলের পক্ষে। দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় পদক্ষেপ এড়াতে বিদ্রোহীদের দলের সাংসদদের দুই তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন (বসিরহাটের সাংসদ হাজি নুরুলের প্রয়াণের পরে ওই আসনটি ফাঁকা রয়েছে)। এ অবস্থায় লোকসভায় দলের দুই তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি সাংসদ রয়েছেন বিদ্রোহীদের সঙ্গে।
তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক হিসাবেই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন কাকলি। যদিও দলীয় বৈঠকে কাকলির বদলে কল্যাণকে চিফ হুইপ ঘোষণা করেছিলেন মমতা। কিন্তু অধিবেশন না চলার কারণে আনুষ্ঠানিক ভাবে তা স্পিকারের দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে জানানো হয়নি। ফলে নিজের পদের ‘সদ্ব্যবহার’ করেছেন কাকলি। এ বিষয়ে কল্যাণ বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তের কথা স্পিকারের দফতরে আগেই জানানো হয়েছিল।’ যদিও বারাসতের সাংসদের বক্তব্য, সংসদীয় দলের চিফ হুইপ এখনও তিনিই। দলের অন্য সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কাকলির।
এমন এক দিনে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে এই ভাঙন ধরল যখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক দিল্লিতেই রয়েছেন। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে এককাট্টা দেখাতে বৈঠকে বসেছেন মমতা, সনিয়া গান্ধী, অখিলেশ যাদবেরা। ঠিক সেই সময়েই তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরল। মমতার হাতছাড়া হয়ে গেল লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল।
ডিবিসি/এফএইচআর