জেলার সংবাদ

ময়মনসিংহে হাসপাতালে ২ নবজাতক অদলবদল, আতঙ্কে অভিভাবকরা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ময়মনসিংহে হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) পরিচয়বাহী টোকেন পরিবর্তন হয়ে দুই নবজাতক অদলবদলের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে এক পরিবারের অভিযোগ ও বিক্ষোভের মুখে রাতেই ভুল করে অন্য পরিবারের কাছে চলে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রকৃত বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ খবরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য নবজাতকের অভিভাবকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

জানা যায়, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ওই ২ নবজাতককে মমেক হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করেছিল তাদের পরিবার। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে শিশু দুটির পরিচয়বাহী টোকেন অদলবদল হয়ে যায়। এর জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজনের বাচ্চা অন্যজনের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।


পরবর্তীতে একটি পরিবার মোবাইলে তোলা ছবির সাথে নবজাতকের চেহারার অমিল পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানায়। শুরুতে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা সেখানে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হলে রাতেই বাচ্চা উদ্ধারে তৎপর হয় হাসপাতাল প্রশাসন।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগেই এক নবজাতককে নিয়ে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার জগন্নাথবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন মাসুদ ইসলাম ও নাদিরা দম্পতি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে আনা হয়। এরপর ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের কৃষক আবু রায়হান ও নাদিরা দম্পতির কাছে তাদের প্রকৃত সন্তানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এ পরিস্থিতি এড়াতে রাতেই তড়িঘড়ি করে দুই পরিবারকে ছাড়পত্র দিয়ে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।


এদিকে, নবজাতক বদলের এ খবরে শিশু ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যান্য অভিভাবকদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণেই এমন স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটেছে।


এনআইসিইউ ওয়ার্ডের এক নবজাতকের পিতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ওয়ার্ডে বাচ্চা ভর্তির পর তিন-চার দিন স্বজনদের দেখতে দেওয়া হয় না। বাচ্চার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গেলে দায়িত্বরত আয়া ও নিরাপত্তাকর্মীরা (সিকিউরিটি) টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তারা বাচ্চাকে দেখতেও দেন না।’


ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অবিলম্বে হাসপাতালের এনআইসিইউ ওয়ার্ডের আধুনিকায়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জোর দাবি জানিয়েছেন।


তবে নবজাতক অদলবদল হওয়া এবং আয়া-নিরাপত্তাকর্মীদের প্রকাশ্য ঘুষ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হাসপাতালের পরিচালক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন