ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নারী চিকিৎসকের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক আবু সালেহ মো. মুসাসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৩১ নম্বর (শিশু) ওয়ার্ডে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহে সম্প্রতি হাম রোগের ব্যাপক প্রকোপ দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ দিনে মমেক হাসপাতালে ১০৬ জন হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং এর মধ্যে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির উদ্দেশ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিয়েই গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে যান।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও সাক্ষাৎকার নিতে গেলে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই দায়িত্বরত এক নারী চিকিৎসক হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেন এবং তাদের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার করে সিকিউরিটি গার্ড ও আনসার সদস্যদের ডেকে সাংবাদিকদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ভিডিও ফুটেজে ওই নারী চিকিৎসকের অপেশাদার ও অসৌজন্যমূলক আচরণের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই চিকিৎসকের নাম জানা সম্ভব হয়নি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তার পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
এ ঘটনায় লাঞ্ছনার শিকার হন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি আবু সালেহ মো. মুসা, দেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান কাউসার মিয়া, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান সুমন আহমেদ এবং আঞ্চলিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম 'আঙ্গর টিভি'র প্রতিনিধি শাওন ও জহিরুল।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হামের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে চিকিৎসকের এমন আচরণে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ডিবিসি/এসএফএল