বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার। দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে মহাকবির জন্মভূমি কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
মধুসূদন একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণানুষ্ঠানে থাকছে মহাকবির আবক্ষ মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মধুসূদন আলোচনা, মধুসূদনের কবিতা থেকে আবৃত্তি, নিবেদিত কবিতা পাঠ এবং মধুগীতি পরিবেশন। এছাড়া এই অনুষ্ঠানে ‘ড. সুকুমার রায় স্মৃতিবৃত্তি’ প্রদান করা হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, মৃত্যুবার্ষিকীর এই আয়োজনে স্থানীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিকদের এক মিলনমেলা ঘটবে। উল্লেখ্য, মধুসূদন একাডেমি প্রতি বছরই সাগরদাঁড়িতে মহাকবির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে আসছে।
এবারের আয়োজন প্রসঙ্গে মধুসূদন একাডেমির পরিচালক, কবি ও মধুসূদন গবেষক খসরু পারভেজ জানান, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. তানভীর দুলাল। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানের সকল ধরনের প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি কেশবপুরের কপোতাক্ষ নদ পারের সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন জমিদার রাজনারায়ন দত্ত এবং মা জাহ্নবী দেবী। ১৮৫৩ সালে তিনি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলে তখন থেকে তাঁর নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
বাংলা সাহিত্যে গাম্ভীর্যপূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক তিনি। তাঁর অমর সৃষ্টিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পদ্মাবতী’ ও ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটক, ‘একেই বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামক দুটি প্রহসন। এছাড়া ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনাকাব্য’, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ ও ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ রচনা করে তিনি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার আলিপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই কালজয়ী মহাকবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ডিবিসি/এমএনকে