বিবিধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মহাকাশে মৃত নক্ষত্র থেকে তৈরি হচ্ছে রঙিন ঢেউ

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মহাকাশে এক মৃতপ্রায় সাদা বামন নক্ষত্র থেকে নির্গত রঙিন শকওয়েভ বা অভিঘাত তরঙ্গ দেখে বিস্মিত হয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে প্রায় ৭৩০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্রটি মহাকাশের বুক চিরে চলার সময় এক বর্ণিল আবহ তৈরি করছে, যার প্রকৃত কারণ এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্য।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে এই সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

 

কী এই ‘বো শক’ (Bow Shock)? 

যখন কোনো বস্তু মহাকাশে প্রচণ্ড গতিতে ছুটতে থাকে, তখন তার সামনে থাকা গ্যাসীয় পদার্থে প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি হয়। এটি অনেকটা জলের বুক চিরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া নৌকার সামনে তৈরি হওয়া ঢেউয়ের মতো। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘বো শক’। ইউরোপীয় সাউদার্ন অবজারভেটরির ভেরি লার্জ টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই বিরল দৃশ্যটি ধরা পড়েছে।

 

রঙিন আলোর রহস্য টেলিস্কোপে ধরা পড়া ছবিটিতে লাল, সবুজ ও নীল রঙের খেলা দেখা গেছে। গবেষণার সহ-প্রধান লেখক ডারহাম ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী সিমোন স্কারিংগি জানান, লাল রং মহাকাশে থাকা হাইড্রোজেনের উপস্থিতি নির্দেশ করে, সবুজ রং নাইট্রোজেনের উজ্জ্বলতা আর নীল রং অক্সিজেনের উত্তেজনা থেকে তৈরি হওয়া আভা।

 

সাধারণত সাদা বামন নক্ষত্রগুলো তার সঙ্গী নক্ষত্র থেকে গ্যাস টেনে নেয়। এই নক্ষত্রটিও তার সঙ্গী একটি ‘লাল বামন’  নক্ষত্র থেকে গ্যাস শোষণ করছে।

 

কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, এই নক্ষত্রটির চারপাশে কোনো গ্যাসীয় ডিস্ক নেই, যা সচরাচর এমন ক্ষেত্রে দেখা যায়। কেন এবং কীভাবে এই নক্ষত্রটি গ্যাস বাইরে ছুড়ে দিচ্ছে এবং এমন শক্তিশালী শকওয়েভ তৈরি করছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে নেই।

 

ধারণা করা হচ্ছে, নক্ষত্রটির শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র এই রহস্যের চাবিকাঠি হতে পারে। প্রায় ১০০০ বছর ধরে এই প্রক্রিয়াটি একইভাবে চলছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

 

সাদা বামন নক্ষত্র কী? আমাদের সূর্যের মতো নক্ষত্রগুলো যখন তাদের জ্বালানি শেষ করে ফেলে, তখন মাধ্যাকর্ষণের চাপে সংকুচিত হয়ে পৃথিবীর সমান আকারের এক ছোট ও ঘন পিণ্ডে পরিণত হয়। একেই বলা হয় ‘সাদা বামন’। আমাদের সূর্যও কয়েকশ কোটি বছর পর এমন অবস্থায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হয়।

 

তথ্যসূত্র রয়টার্স

 

ডিবিসি/এমইউএ

আরও পড়ুন