মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল ও নহাটা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে রাতভর দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষে বেশ কিছু বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অন্তত ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।
শনিবার দিনভর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও নতুন করে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে আমতৈল গ্রামের লিপটন মিয়া এবং নহাটা গ্রামের টিটন মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরেই শুক্রবার রাতে এক পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের গ্রামে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাতভর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।
সংঘর্ষ চলাকালে সালেক খান, আতিয়ার মোল্যা, রেন্টু খান, নুরুজ্জামান, ইদ্রিস বিশ্বাস, রশিদ মোল্যা, লেলিন মোল্যা, পল্টু মোল্যা, হাকিম শেখ, আতর শেখসহ বেশ কিছু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। একই সময় অন্তত ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া
এ ঘটনায় অন্তত ৭টি গবাদিপশু লুট হওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত অন্তত ১০ জনকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে শনিবার হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও ঘটনা চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমান জানান, সামাজিক দলাদলি ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
ডিবিসি/আরএসএল