আন্তর্জাতিক, অন্যান্য

মাঝরাতে ঘুম ভাঙতেই অস্ট্রেলীয় নারী দেখলেন বুকের ওপর অজগর!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৯ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে র‍্যাচেল ব্লু নামের এক নারীর সাথে ঘটে গেছে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। মাঝরাতে ঘুম ভাঙতেই অস্ট্রেলীয় নারী দেখলেন বুকের ওপর আড়াই মিটার লম্বা একটি অজগর কুণ্ডুলী পাকিয়ে আছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে। গভীর রাতে ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন ঐ নারী। হঠাৎ বুকের ওপর ভারী কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে ঘুম ভেঙে যায় তার। আধো ঘুমে ভেবেছিলেন, নিজের আদরের পোষা কুকুরটি হয়তো আবদার করে বুকের ওপর উঠে বসেছে। কিন্তু অন্ধকারের মধ্যে আদর করতে হাত বাড়াতেই লোমশ ত্বকের বদলে হাতে ঠেকে মসৃণ ও পিচ্ছিল কিছু। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন র‍্যাচেল ও তার স্বামী।

 

র‍্যাচেল জানান, কুকুর ভেবে ভুল করার পর যখনই পিচ্ছিল চামড়ার স্পর্শ পান, তখনই তার সন্দেহের দানা বাঁধে। তিনি দ্রুত নিজেকে চাদরের নিচে গুটিয়ে নেন। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তার স্বামী পাশের টেবিল ল্যাম্পটি জ্বালান। আলো জ্বলতেই দুজনেই ভয়ে ও বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। র‍্যাচেলের বুকের ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে ২ দশমিক ৫ মিটার (প্রায় ৮ ফুট) লম্বা একটি অজগর।

 

সেই শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে র‍্যাচেল বলেন, তার স্বামী তখন ফিসফিস করে বলছিলেন, ওহ বেবি, একদম নড়বে না। তোমার গায়ের ওপর অন্তত আড়াই মিটারের একটা বিশাল পাইথন বসে আছে।

 

মৃত্যুভয় সামনে থাকলেও র‍্যাচেলের প্রথম চিন্তা ছিল ঘরের ভেতরে থাকা তার ডালমেশিয়ান জাতের কুকুরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, কুকুরগুলো যদি সাপের অস্তিত্ব টের পায়, তবে নিশ্চিতভাবেই আক্রমণ করবে এবং ঘরে এক ভয়াবহ রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে যাবে। র‍্যাচেলের স্বামী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কুকুরগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন। এরপরই সাহসের পরিচয় দেন র‍্যাচেল। তিনি খুব সাবধানে বিছানা থেকে নিচে নেমে আসেন এবং কোনো সরঞ্জামের সাহায্য ছাড়াই পাইথনটিকে ধরে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেন।

 

সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেও র‍্যাচেল ছিলেন আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, সাপের উপদ্রব আছে এমন এলাকাতেই তার বেড়ে ওঠা। তার মতে, মানুষ শান্ত থাকলে সাপও শান্ত থাকে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এটি একটি ‘কার্পেট পাইথন’, যা বিষাক্ত নয়। সাপটির আকার সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে র‍্যাচেল বলেন, সাপটি এতই বড় ছিল যে, আমি যখন তাকে জানালা দিয়ে বের করছিলাম, তার লেজের অংশ তখনও জানলার বাইরে ঝুলছিল।

 

এই ঘটনায় র‍্যাচেলের স্বামী স্তম্ভিত হয়ে পড়লেও র‍্যাচেল খুব একটা ভীত ছিলেন না। বরং এক অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক তথ্য দেন তিনি। মজার ছলে র‍্যাচেল বলেন, বুকের ওপর সাপ না হয়ে যদি কোনো ‘কেন টোড’ (বিশালাকৃতির কুনো ব্যাঙ) দেখতাম, তবে হয়তো আমি বমি করে দিতাম বা অনেক বেশি ভয় পেতাম। কারণ আমি ব্যাঙ একদমই সহ্য করতে পারি না।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় এলাকায় কার্পেট পাইথন খুবই সাধারণ একটি প্রাণী। এরা সাধারণত ছোট প্রাণী বা পাখি খেয়ে বেঁচে থাকে এবং সচরাচর মানুষকে আক্রমণ করে না। তবে মাঝরাতে বিছানায় এমন অনাহুত অতিথির আগমন নিশ্চিতভাবেই র‍্যাচেল দম্পতির জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।

 

তথ্যসূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন