জেলার সংবাদ

মাত্র ১০ মিনিটেই শিশুকে দেয়া হল ৫০ মিলি স্যালাইন, বরগুনায় ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের এক ইন্টার্ন নার্সের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে দ্রুত স্যালাইন পুশ করার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ডৌয়াতলা এলাকার রাসেল ইসলাম সুজন ও লাকি দম্পতির কোলজুড়ে জন্ম নেওয়া নবজাতকটি ঠান্ডাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়। গত ২ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নবজাতকটির শরীরে ১০০ মিলি স্যালাইন দেওয়ার কথা ছিল, যার প্রবাহের মাত্রা নির্ধারিত ছিল প্রতি মিনিটে মাত্র ৫ থেকে ৬ ফোঁটা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকা অরনি নামের এক ইন্টার্ন নার্স কোনো ধরনের সঠিক পর্যবেক্ষণ বা নিয়ম না মেনে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৫০ মিলি স্যালাইন শিশুটির শরীরে পুশ করে দেন।

 

স্যালাইনের এই অস্বাভাবিক ও দ্রুত প্রবাহের কিছুক্ষণ পরই নবজাতকটির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। শিশুটির পরিবারের ক্ষুব্ধ স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ন্যূনতম নিয়ম না মেনে অনভিজ্ঞ ইন্টার্ন নার্স দিয়ে স্যালাইন পুশ করানোর কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

 

নিহত শিশুর স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যেখানে ধীরে ধীরে ফোঁটায় ফোঁটায় স্যালাইন যাওয়ার কথা, সেখানে এত দ্রুত ও বেশি পরিমাণে স্যালাইন শরীরে প্রবেশ করায় শিশুটির কোমল শরীর তা সহ্য করতে পারেনি। এটি সরাসরি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং দোষী নার্স ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তি চাই।’

 

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বরগুনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ ঘটনায় লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর সঠিক সত্য উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। চিকিৎসায় বা স্যালাইন প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন