সমবয়সী শিশুরা যখন স্কুলের নামতা মুখস্থ করতে কিংবা এবিসিডি শিখতে ব্যস্ত, ঠিক তখন ওয়াইল্ডার ম্যাকগ্রা নামের সাত বছরের শিশুটি অ্যান্টার্কটিকার বরফে দাঁড়িয়ে বিশ্বজয়ের আনন্দ উপভোগ করছে। নিউ ইয়র্কের আপার ওয়েস্ট সাইডের বাসিন্দা এই শিশুটি মাত্র সাত বছর বয়সেই পৃথিবীর সাতটি মহাদেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
ওয়াইল্ডারের মা, ৩৯ বছর বয়সী ট্রাভেল রাইটার জর্ডি লিপ্পে-ম্যাকগ্রা জানান, এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত ছক ছিল না। তিনি বলেন, আমরা এমন কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু করিনি যে ৭ বছর বয়সের মধ্যে তাকে ৭ মহাদেশ দেখাব। আমরা মূলত ঘুরতে ভালোবাসি, তাই ঘুরেছি।
ঘটনাটি মোড় নেয় যখন ওয়াইল্ডারের বয়স ৫ বছর। দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণের আগে জর্ডি ও তার স্বামী রস ম্যাকগ্রা হিসাব করে দেখেন, তাদের ছেলে এরই মধ্যে ৫টি মহাদেশ ভ্রমণ করে ফেলেছে। তখন রস সিদ্ধান্ত নেন, বাকিগুলোও তাহলে শেষ করা যাক।
ওয়াইল্ডারের পাসপোর্টে প্রথম ইমিগ্রেশন সিল পড়ে যখন তার বয়স মাত্র ৮ সপ্তাহ। ২০১৮ সালের আগস্টে পর্তুগাল ভ্রমণের মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু। এরপর করোনা মহামারির বিরতি বাদে ৩ থেকে ৪ বছর বয়সের মধ্যে সে নেভিস দ্বীপ, দুবাই এবং জাম্বিয়ায় সাফারি ভ্রমণ করে। ৫ বছর বয়সের আগেই সে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ইতালি এবং গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণ সম্পন্ন করে।
গত গ্রীষ্মে আমস্টারডাম, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড ভ্রমণের মাধ্যমে তার ৬টি মহাদেশ পূর্ণ হয়। সবশেষে গত নভেম্বরে অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণের মাধ্যমে তার এই ষোলকলা পূর্ণ হলো।
মা জর্ডির জন্য ছেলের সাথে অ্যান্টার্কটিকা যাওয়া ছিল বিশেষ আবেগের। কারণ, সাত বছর আগে তিনি যখন প্রথম অ্যান্টার্কটিকা গিয়েছিলেন, তখন তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং ওয়াইল্ডার তার গর্ভে ছিল। সাত বছর পর ছেলেকে নিয়ে সেখানে ফিরে আসাকে তিনি একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এবং লিন্ডব্লাড এক্সপিডিশনের জাহাজে করে তারা এই অভিযান করেন। সেখানে ওয়াইল্ডার কেবল পেঙ্গুইন দেখেই সময় কাটায়নি, বরং জাহাজে থাকা গবেষকদের কাছ থেকে হাতে-কলমে বিজ্ঞান ও অ্যান্টার্কটিকা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছে।
তথ্যসূত্র নিউইয়র্ক পোস্ট
ডিবিসি/এমইউএ