মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, এর জন্য পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ‘ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট উইং’ গঠন করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত তরুণদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে শাস্তির বদলে দ্রুত শনাক্ত করে পুনর্বাসনের আওতায় আনতে হবে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা পুলিশের আয়োজনে ‘নাগরিকবৃন্দের সঙ্গে মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান এসব কথা বলেন।
এমপি নাসের রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। মাদকাসক্তরা পরিবার ও সমাজের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার আগেই তাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন তিনি।
এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে শুধু থানার ওসিদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয় জানিয়ে তিনি মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তার আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীর পক্ষে কোনো ধরনের তদবির বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর অধীনস্থ কোনো কর্মকর্তা যদি মাদকসংক্রান্ত তদবির পান, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।
ডিআইজি স্পষ্ট জানান, যে ব্যক্তি মাদকসংক্রান্ত অন্যায়ের পক্ষে তদবির করবে, সে-ও সমানভাবে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ুন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক বকশি মিছবাউর রহমান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
পরে উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
ডিবিসি/এমএনকে