আন্তর্জাতিক, ভারত

মাদরাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে আকাশ ভেঙে পড়বে না: কলকাতা হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পশ্চিমবঙ্গের মাদরাসাগুলোতে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করে রাজ্য সরকারের জারি করা একটি নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি গাইলে "আকাশ ভেঙে পড়বে না"। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি চলাকালীন ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়, তা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন। তিনি মন্তব্য করেন, অন্য ধর্মের কোনো শ্লোক বা পঙ্‌ক্তি উচ্চারণ করলেই কারও নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয়ে কোনো প্রভাব পড়ে না। তিনি বলেন, আজ যদি তাকে তার নিজের ধর্মের বাইরের কোনো উক্তি উচ্চারণ করতে বলা হয়, তার মানে এই নয় যে তিনি নিজের ধর্মের বাইরের কোনো ব্যক্তি হয়ে যাবেন। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে আদালত খ্রিস্টান পরিচালিত স্কুলগুলোর উদাহরণ টেনে জানায়, দেশে এমন হাজার হাজার খ্রিস্টান স্কুল রয়েছে যেখানে সমস্ত শিক্ষার্থীকেই প্রার্থনায় অংশ নিতে বলা হয়। সেখানে অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীরা কেন খ্রিস্টান ধর্মীয় বিষয়বস্তু গাইবে, এমন প্রশ্ন সাধারণত ওঠে না।


মামলাকারীদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি যুক্তি দেন যে, ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের জাতীয় স্তোত্র (National Song), জাতীয় সংগীত (National Anthem) নয়। যেহেতু জাতীয় সংগীতের মর্যাদা জাতীয় স্তোত্রের চেয়ে বেশি, তাই মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য এটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে না।

 

আদালত এ পর্যায়ে জানতে চায়, এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করার কারণে এখনও পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। জবাবে মামলাকারীদের আইনজীবী জানান, কর্তৃপক্ষ এখনও নির্দেশিকাটি বাস্তবায়ন করার পদক্ষেপ নেয়নি এবং কেউ ক্ষতিগ্রস্তও হয়নি। এরপর রাজ্যের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরজ কুমার ত্রিবেদী হলফনামা দাখিলের জন্য সময় চান এবং যুক্তি দেন যে, কেবল আশঙ্কার ভিত্তিতে নির্দেশিকার ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া উচিত নয়। এরপর আদালত রাজ্য সরকারের প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি ঘোষণা করে।


আদালতের এই বিচারবিভাগীয় পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা রক্ষায় সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ (যা ‘বন্দে মাতরম বিল’ নামেও পরিচিত) পাস হয়েছে।

 

এই নতুন আইনের মাধ্যমে জাতীয় গান বা স্তোত্রকে জাতীয় সংগীতের একেবারে সমপর্যায়ের আইনি মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূর্বে জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সংগীতের অবমাননা রোধে আইনগত সুরক্ষা থাকলেও জাতীয় গান এর আওতাভুক্ত ছিল না। নতুন এই বিলে জাতীয় গানে বাধা দেওয়া বা এর অবমাননাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন