ইরানের সামরিক বাহিনী, কূটনীতিক ও রাজনীতিকরা সবাই এখন একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে কাজ করছেন—আর তা হলো, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হলে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থ এবং ইসরায়েলের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া।
ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও স্থাপনা চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মেরামত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।
এদিকে, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ—যিনি একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং বর্তমানে 'ওয়ার রুমে' অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে—তিনিও প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পরবর্তীতে এক টুইট বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রতিশোধের আগুন মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সাথে যারা কাজ করে, তাদের দিকেও সম্প্রসারিত হবে।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হয়নি। বরং, চাপিয়ে দেওয়া এই ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধের’ (war of choice) কারণে সৃষ্ট ভয়ে বীমা কোম্পানিগুলোই জাহাজ চলাচলে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই প্রণালী ইরানের মিত্রদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, ইরান তাকে এখন হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। এর পাশাপাশি, ইয়েমেনের হুথিরা যদি এই যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেয় এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে তা বিশ্বে আরেকটি চরম সংকটের জন্ম দিতে পারে।
সার্বিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে ইরান অন্যান্য পক্ষগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ডিবিসি/কেএলডি