বিবিধ

মানসম্মত রোগ নির্ণয়ে বিএনপি সরকারের অঙ্গীকার, গড়ে উঠবে শক্তিশালী জাতীয় রেফারেন্স ল্যাব

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারকে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরি ও সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার সরকারের এই অঙ্গীকারের কথা জানান। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ড. রুই লিউ এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সানজান।

পরিদর্শনকালে ড. হায়দার প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ল্যাবরেটরি ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি জানতে পারেন, দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সেবা পেতে ভোর ৫টা থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গোনেন। রোগীদের এই অবর্ণনীয় ভোগান্তি ও সময় অপচয়ের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দিয়ে তিনি অবিলম্বে ডিজিটাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সময়ভিত্তিক রোগী ব্যবস্থাপনা চালুর নির্দেশ দেন। ড. হায়দার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসাসেবা পেতে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবাকে রোগীবান্ধব করার আহ্বান জানান তিনি।

 

পরবর্তীতে ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রতিষ্ঠানটিকে তার মূল লক্ষ্য অনুযায়ী গবেষণা, প্রশিক্ষণ, রেফারেন্স সেবা এবং জাতীয় পর্যায়ে ল্যাবরেটরির মাননিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে কারিগরি সহায়তা প্রদানে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এডিবি, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সক্ষমতা ও ঘাটতি মূল্যায়ন করে একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হবে।

 

সভায় দেশব্যাপী একটি সমন্বিত ‘হিউম্যান স্পেসিমেন কালেকশন ও রেফারেল নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার সম্ভাবনার ওপরও জোর দেওয়া হয়। ড. হায়দার জানান, এই নেটওয়ার্ক তৈরি হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের জটিল পরীক্ষার জন্য আর ঢাকায় আসার প্রয়োজন হবে না; বরং মানসম্মতভাবে নমুনা সংগ্রহ করে উচ্চমানের রেফারেন্স ল্যাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এতে বিশেষায়িত ডায়াগনস্টিক সেবার বিকেন্দ্রীকরণ হবে এবং রোগীদের সময় ও অর্থ উভয়েরই সাশ্রয় হবে।

 

সবশেষে, ড. হায়দার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বর্তমান অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল এবং গবেষণার ঘাটতি চিহ্নিত করে একটি সুস্পষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একটি শক্তিশালী জাতীয় রেফারেন্স ল্যাব হিসেবে নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন