বর্তমানে স্মার্টফোন বা ডিএসএলআর ক্যামেরা কেনার সময় আমরা মেগাপিক্সেল নিয়ে খুব বেশি চিন্তাভাবনা করি। ৪৮, ৬৪ কিংবা হালের ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দেখে আমরা প্রযুক্তির উৎকর্ষে মুগ্ধ হই। কিন্তু আপনি কি জানেন, জন্মগতভাবে প্রকৃতি আমাদের যে দুটি চোখ দিয়েছে, তার ক্ষমতা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামী ক্যামেরার চেয়েও বহুগুণ বেশি? বিজ্ঞানীদের মতে, ডিজিটাল ক্যামেরার পরিভাষায় মানুষের চোখের রেজোলিউশন প্রায় ৫৭৬ মেগাপিক্সেলের সমান।
বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং ফটোগ্রাফার ড. রজার ক্লার্ক মানুষের চোখের ‘ফিল্ড অফ ভিউ’ বা দৃষ্টিসীমার ওপর ভিত্তি করে জটিল অংকের মাধ্যমে এই তথ্যটি সামনে এনেছেন।
ড. ক্লার্কের গবেষণা অনুযায়ী, আমাদের চোখের দৃষ্টিসীমা প্রায় ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা যখন কোনো দৃশ্যের দিকে তাকাই, তখন আমাদের চোখ প্রতিনিয়ত নড়াচড়া করে এবং মস্তিষ্ক সেই সব তথ্য একত্রিত করে একটি অখণ্ড ও অত্যন্ত স্বচ্ছ ছবি আমাদের সামনে তুলে ধরে।
এই সম্পূর্ণ দৃশ্যটিকে যদি ডিজিটাল ছবির পিক্সেলের হিসেবে মাপা হয়, তবে তা ৫৭৬ মেগাপিক্সেলের সমান হবে। যদিও চোখের কার্যপদ্ধতি ক্যামেরার মতো স্থির স্ন্যাপশট নয় এবং এটি একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, তবুও রেজোলিউশনের এই তুলনা প্রমাণ করে যে মানবদেহ বা আমাদের চোখ প্রযুক্তির তৈরি যেকোনো লেন্সের চেয়ে বহুগুণে উন্নত ও জটিল এক অপটিক্যাল যন্ত্র, যার ধারেকাছেও বর্তমানের সাধারণ ক্যামেরা পৌঁছাতে পারেনি।
সূত্র: ডিসকভারি
ডিবিসি/এনএসএফ