আন্তর্জাতিক, আরব

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা: জর্ডানে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে একযোগে ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হেনেছে তেহরান। জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

একই সাথে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (ফিফথ ফ্লিট) সদর দপ্তরেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।


আইআরজিসি-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জর্ডানের মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এই হামলায় ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ ফাইটার জেটসহ একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন ঘাঁটির বড় একটি অংশ এবং বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।


বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের উস্কানি ও অপতৎপরতা অব্যাহত থাকলে ইরানের এই প্রতিরোধ ও পাল্টা সামরিক অভিযানও জারি থাকবে।


আইআরজিসি এবং ইরানের সেনাবাহিনী পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক আউটপোস্ট, উপকূলীয় ইউনিট, আইন প্রয়োগকারী চৌকি এবং বন্দর আব্বাস বিমানবন্দর এলাকায় ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই সমন্বিত প্রতিশোধমূলক অপারেশন চালানো হয়েছে।


আইআরজিসি-এর অভিযানে দুটি পৃথক তরঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মোট ১৮টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় আইআরজিসি-এর অ্যারোস্পেস ও নেভি ফোর্স। সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় পৃথকভাবে ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, তাদের একটি ড্রোন স্কোয়াড্রন বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে।


ইরানের সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ইউনিট খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে সদা প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে তারা বলে, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলা বন্ধ করার যে ঘোষণা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট দিয়েছেন, তা মূলত ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও চূর্ণকারী জবাবের ভয়েই দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনী আরও একটি বড় পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করলো।


এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে গত রাতে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক আগ্রাসনের নির্দেশ দেন। গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই হামলা চালায় ওয়াশিংটন।


পরবর্তীতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন যে, তার নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর মোট ৪৯টি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মূলত এই মার্কিন হামলার জবাবেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ এই পাল্টা আঘাত হানলো তেহরান।


বর্তমান পরিস্থিতিতে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।


সূত্র: প্রেস টিভি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন