তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ শান্তিদূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমান সম্মেলনে মুখোমুখি বৈঠকে বসেন। গত গ্রীষ্মে ১২ দিনের সংঘাতের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। তবে আলোচনার আবহেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে নাগরিকদের ‘এখনই ইরান ছাড়ার’ নির্দেশ দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরান নতুন কোনো পারমাণবিক চুক্তিতে সই না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত কয়েক সপ্তাহে ইরানের জলসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যাকে ট্রাম্প একটি ‘বিশাল নৌবহর’ বা ‘আর্মাডা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনা করছে কারণ তারা চায় না আমরা হামলা করি। আমাদের একটি বিশাল নৌবহর সেখানে যাচ্ছে।
বৈঠকে ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে। এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল ইরানের ‘শূন্য পারমাণবিক সক্ষমতা’ নিশ্চিত করতে চায়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি বা হঠকারিতা’র বিরুদ্ধে ইরান নিজেকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। তবে আলোচনার আগে কূটনীতি ব্যবহারের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না তেহরান। এ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রধান মিত্র চীন জানিয়েছে, তারা তেহরানের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে সমর্থন করে এবং ওয়াশিংটনের একতরফা গুন্ডামি’র বিরোধিতা করছে।
ইরানে সরকারবিরোধী তীব্র আন্দোলন দমনের রেশ কাটার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ওই বিক্ষোভে সহিংস দমনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শুরুতে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেও, বর্তমানে তার অবস্থান ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার দিকেই বেশি ঝুঁকেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনা থেকে আঞ্চলিক অন্যান্য পক্ষগুলোকে বাদ দিতে রাজি হয়েছে। যদিও ইরানের দাবি, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ট্রাম্প সামরিক পথ ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন করতে চান এবং সবার সঙ্গে কথা বলবেন। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের হাতে ‘সব বিকল্পই খোলা আছে’।
তত্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
ডিবিসি/এএমটি