আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনায় তেহরান, চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪০ মিনিট আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব ও মতামত পর্যালোচনা করছে ইরান। অন্যদিকে, চূড়ান্ত ও 'সঠিক উত্তরের' জন্য তেহরানকে আরও কয়েক দিন সময় দিতে প্রস্তুত রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানে নতুন করে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতামত হাতে পেয়েছে এবং সেগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। এই শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে বুধবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করেন। উল্লেখ্য, গত ছয় সপ্তাহ ধরে একটি ভঙ্গুর অস্ত্রবিরতি চললেও শান্তি আলোচনায় দৃশ্যত খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। এদিকে, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম ও মূল্যস্ফীতির জেরে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দেশে বেশ চাপের মুখে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, কাঙ্ক্ষিত উত্তর না পেলে দ্রুতই দৃশ্যপট পাল্টে যাবে এবং তার প্রশাসন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফয়সালার সময় ঘনিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি চুক্তির দিকে না এগোলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তবে এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ইরানের ওপর নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে এর পরিণতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার নির্দিষ্ট সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে।

 

এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত ও বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জুড়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান প্রণালীটিকে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। মিত্র দেশগুলোর জন্য প্রণালীটি খুলে দেওয়া এবং এর জন্য মাশুল আরোপের চিন্তাভাবনাও করছে ইরান, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তবে এর মধ্যেই ইরানের সহযোগিতায় চীনের দুটি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সুপারট্যাঙ্কার প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে। লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে অন্তত ৫৪টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছে, যা যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক সময়ের (দৈনিক ১২৫-১৪০টি জাহাজ) তুলনায় নিতান্তই নগণ্য।

 

অস্ত্রবিরতির আগে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আগ্রাসনেও ব্যাপক হতাহত ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়াদের সমর্থন বন্ধ করার পাশাপাশি ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ত্বরান্বিত করা। তবে এখন পর্যন্ত ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে এবং দেশটির বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাও দৃশ্যত অটুট রয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন