ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন কমান্ডোদের হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাগারি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোলফাগারি জানান, ওমান সাগরের জলসীমায় ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন কমান্ডোরা নগ্ন আগ্রাসন চালিয়েছে। এই ঘটনার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন হামলাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, আক্রান্ত জাহাজটিতে ক্রু সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত রয়েছেন। তাদের জীবন ও নিরাপত্তা বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে থাকায় ইরানের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে কিছুটা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
জোলফাগারি বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে, মার্কিন আগ্রাসনের শিকার হওয়া ওই জাহাজের ক্রু ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ামাত্রই ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী সন্ত্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন মেরিন সেনারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানি ওই বণিক জাহাজে অনুপ্রবেশ করে এবং এর নেভিগেশন সিস্টেম (দিকনির্ণয় ব্যবস্থা) বিকল করে দেয়। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানি বাহিনী ওই এলাকায় অবস্থানরত বেশ কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া একতরফা যুদ্ধের জেরে কয়েক সপ্তাহ বন্ধ রাখার পর গত শুক্রবার ইরান ঘোষণা করেছিল যে, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখায় গত শনিবার আইআরজিসি নৌবাহিনী পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল