শুধুমাত্র সস্তায় পণ্য বিক্রি করাই মূল লক্ষ্য নয়, বরং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর জন্য অতি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (এমএসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের নীতিগত সহায়তা এখন সময়ের দাবি। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর যৌথ উদ্যোগে “মার্কেট একসেস এন্ড ব্র্যান্ডিং স্ট্রাটেজিস ফর এমএসএমই ইন দা গ্লোবাল ইকোনমি” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য পণ্যের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং কারখানার কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্যের সঠিক 'ব্র্যান্ডিং' করা অত্যন্ত জরুরি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বহুমুখী পাটজাতপণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. রাশেদুল করিম মুন্না। তিনি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজি বিনিয়োগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া, বর্তমানে এসএমই বা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের যে সংজ্ঞা প্রচলিত আছে, তার সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্যোক্তারা নানামুখী বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, যার পরিবর্তন এখন অত্যাবশ্যক। তিনি আরও বলেন, বিশ্বমানের ডিজাইন, দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং সঠিক ব্র্যান্ডিংয়ের পাশাপাশি যদি সরকারের নীতিসহায়তা না থাকে, তবে এমএসএমই খাত থেকে জাতীয় আয় বৃদ্ধি বা রপ্তানি সম্প্রসারণ কোনোটাই সম্ভব হবে না।
উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সচিব ওবায়দুর রহমান। তিনি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি লাঘবে জোর দিয়ে বলেন, ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তিসহ ব্যবসার অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা যেসব হয়রানির শিকার হন, তা নিরসন করতে হবে। ব্যবসার সব অনুষঙ্গ বা সেবাকে যদি 'এক ছাতার নিচে' না আনা যায়, তবে এই খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন হবে।
সেমিনারে বিসিক এবং ইপিবির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা জানান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে সহজে বিদেশের মেলাগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেজন্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) এগিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে, বিসিককে জমিসহ কারখানা স্থাপনে সক্রিয় সহায়তা প্রদান করতে হবে। বিসিকের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ইপিবি, বিসিক এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সবাই যদি এক হয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবেই অতি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতিতে তাদের প্রত্যাশিত অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানান, দেশে যেমন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে, তেমনি বিদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মেলায়ও যেন বাংলাদেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অংশ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো কাজ করে যাচ্ছে।
ডিবিসি/এএমটি