মালদ্বীপের দিঘুরা দ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে একজন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তাজ উদ্দিন ইসলাম। নিহত ২৫ বছর বয়সি তাজ সদর উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের আলাদাদপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
এদিন ভোরে দেশটির একটি আইল্যান্ডে নির্মাণকাজের সাইটের গেস্ট হাউসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হন বলে বাংলাদেশ হাই কমিশনের শ্রম কাউন্সেলর সোহেল পারভেজ জানিয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশি আরও দুজন আহত হয়েছেন।
তাজ উদ্দিন ছাড়া সেখানে নিহত অন্যরা হলেন- সদর আলী, রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও নূরনবী সরকার। চিকিৎসাধীন আছেন জামাল উদ্দিন ও সাদ্দাম হোসেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে সজিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ছোট্ট একটি ঘরে কোলে চার মাস বয়সী কন্যাসন্তান নিয়ে নির্বাক বসে আছেন স্ত্রী অনন্তি বেগম। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। পাশে বসে বৃদ্ধ মা তাহেরা বেগম শুধু বলছিলেন, “আমার ছেলেটারে একবার দেখাইয়া দাও আল্লাহ।”
নিহত তাজ উদ্দিন সজিব লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি আবুল কাশেমের ছেলে। সংসারের হাল ধরতে মাত্র ছয় মাস আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিদেশ যেতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। অনেক কষ্ট করে জমি বন্ধক রেখে সেই টাকা জোগাড় করেছিল পরিবার। বিদেশে গিয়ে তিন মাসে প্রায় এক লাখ বিশ হাজার টাকা বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন সজিব। সেই টাকা দিয়েই কোনোমতে চলছিল সংসার। কিন্তু হঠাৎ দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার।
সজিবের বাবা আবুল কাশেম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছেলেটা বলছিল, ‘বাবা, আর কষ্ট করবা না, আমি সংসার সামলাইমু।’ অনেক কষ্ট করে বিদেশে পাঠাইলাম। এখন আমার ছেলেটাই আর ফিরবে না। তার ছোট বাচ্চা আর বউ কীভাবে চলবে?”
ডিবিসি/কেএলডি