আমরা অনেকেই গর্ব করে বলি যে আমরা ‘মাল্টিটাস্কিং’ বা একসাথে একাধিক কাজ করতে পটু। কানে ফোন রেখে টাইপিং করা, কিংবা জুম মিটিংয়ে থাকার পাশাপাশি ইমেল লেখা আমরা মনে করি এতে আমাদের সময় বাঁচছে এবং দক্ষতা বাড়ছে। কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। বিজ্ঞান বলছে, মানুষের মস্তিষ্ক একই সময়ে মনোযোগ দিয়ে দুটি জটিল কাজ করতে সম্পূর্ণ অক্ষম।
গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা যখন মনে করি যে আমরা একসাথে দুটি কাজ করছি, মস্তিষ্ক আসলে তা করছে না। মস্তিষ্ক খুব দ্রুত এক কাজ থেকে আরেক কাজে মনোযোগ সরিয়ে নেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘র্যাপিড টাস্ক সুইচিং’।
এমআইটি এর প্রখ্যাত স্নায়ুবিজ্ঞানী আর্ল মিলার এ বিষয়ে বলেন, আমাদের মস্তিষ্ক এমনভাবে তৈরি নয় যে তা একসাথে একাধিক কাজে মনোযোগ দিতে পারবে। আমরা যখন মাল্টিটাস্কিং করি, আমরা আসলে খুব দ্রুত এক কাজ থেকে আরেক কাজে লাফিয়ে বেড়াই। এতে আমাদের মনে হয় আমরা সব একসাথে করছি, কিন্তু আসলে আমাদের কাজের গতি ও মান কমে যায়।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এর মতে, বারবার এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোযোগ সরাতে গিয়ে মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে এবং কাজের গতি ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একে বলা হয় ‘সুইচ কস্ট’।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্লিফোর্ড নাসের একটি বিখ্যাত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাল্টিটাস্কিং করেন, তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। এমনকি তাদের আইকিউ লেভেল সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে, যা রাতজাগা বা গাঁজা সেবনের প্রভাবের সমতুল্য হতে পারে বলে লন্ডনের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে, আমরা হাঁটার সময় তো কথা বলতে পারি। বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যায় বলছেন, হাঁটা বা খাওয়ার মতো কাজগুলো আমাদের ‘মাসল মেমোরি’ বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার অংশ। কিন্তু যখনই দুটি এমন কাজের প্রশ্ন আসে যেখানে গভীর মনোযোগ বা চিন্তার প্রয়োজন যেমন গাড়ি চালানো এবং টেক্সট করা—তখন মস্তিষ্ক একসাথে দুটি করতে পারে না, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ও মানসিক চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞরা ‘মনোটাস্কিং’ বা এক সময়ে মনোযোগ দিয়ে একটি কাজ করার অভ্যাস গড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সূত্র: ফোবর্স
ডিবিসি/এনএসএফ