আন্তর্জাতিক, এশিয়া

মালয়েশিয়ায় লরি উল্টে ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মালয়েশিয়ার পেহাং রাজ্যে একটি পামওয়েল বাগানের লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরও একজন।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে রোমপিন জেলার কামপুং পেরভিরা জয়ার সন্নিকটে জালান ফেলদা সেলানচার-ফেলদা রেডং সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। 

 

নিহত দুই বাংলাদেশি শ্রমিকের নাম মো. কাদের (৩৪) ও মো. ডালিম (৩০)। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহতরা সবাই স্থানীয় একটি পামওয়েল বাগানের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তাদের সবারই বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) ছিল।

 

রোমপিন জেলা পুলিশ সুপার শরিফ শাই শরিফ মন্দোই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, দুর্ঘটনার সময় চারজন বিদেশি শ্রমিক একটি লরিতে করে কীটনাশক বহন করছিলেন। লরির সামনের সিটে চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন মো. কাদের এবং লরির পেছনে ছিলেন মো. ডালিম ও অন্য একজন শ্রমিক।

 

প্রাথমিক পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, লরিচালক সামনের একটি গাড়িকে পাশ কাটিয়ে (ওভারটেক) যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেসময় তিনি লরির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং লরিটি সড়কের বাম পাশে উল্টে যায়। এতে সামনের আসনে থাকা মো. কাদের এবং পেছনের যাত্রী মো. ডালিম গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে লরির বাংলাদেশি চালক অক্ষত রয়েছেন।

 

দুর্ঘটনার পরপরই আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে সেগামাত হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহত মো. কাদের ও মো. ডালিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুয়াদজাম শাহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

তদন্তে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ সুপার জানান, লরিচালকের কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও তাকে দিয়ে কেন গাড়ি চালানো হচ্ছিল, সে বিষয়ে গাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে।

 

ঘটনাটি মালয়েশিয়ার ১৯৮৭ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪১(১) ধারায় (বেপরোয়া যান চালানোর কারণে মৃত্যু) তদন্ত করা হচ্ছে। এই ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীর সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: বার্নামা

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন