চলতি মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানান, মাসের ১৫ তারিখের পর বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মে মাসে দেশে ৫ থেকে ৮ দিন কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় এবং ১ থেকে ৩ দফা তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
বিভাগভিত্তিক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষজ্ঞ কমিটির সভার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলেও কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
বিভাগ সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত (মিলিমিটার) সিলেট ৫২০–৫৪০ মি.মি,ময়মনসিংহ ৩৪০–৩৬০ মি.মি, চট্টগ্রাম ৩৩০–৩৫০ মি.মি, রংপুর ২৬০–২৮০ মি.মি, ঢাকা ২৫০–২৭০ মি.মি, বরিশাল ২২০–২৫০ মি.মি, রাজশাহী ১৭০–১৯০ মি.মি, খুলনা ১৬০ –১৮০ মি.মি।
এ মাসে দেশে ৫ থেকে ৮ দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১ থেকে ৩ দফা মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহে (৪০°C – ৪১.৯°C) রূপ নিতে পারে। প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকলেও ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সাময়িকভাবে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে।
দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ৩.৫ থেকে ৫.৫ মি.মি. এবং গড় সূর্যকিরণকাল সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা থাকতে পারে। কৃষিকাজের জন্য এ আবহাওয়া সহায়ক বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
এপ্রিল মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫.৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগে (স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬৯.৫% বেশি)। কিশোরগঞ্জের নিকলীতে (২৮ এপ্রিল, ১৬০ মি.মি.)। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাজশাহীতে (২২ এপ্রিল, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাঙ্গামাটিতে (১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
ডিবিসি/এসএফএল