মায়ের কারণেই সংসার টেকে না, বউ চলে যায় এমন অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকে যশোরে নিজের মাকেই ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মামুনুর রশিদ মামুন নামে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে যশোর সদর উপজেলার বাজেদুর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ারা বেগম ওই গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ মামুন ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক।
পুলিশ জানায়, মামুন ব্যক্তিগত জীবনে দুটি বিয়ে করেছেন। প্রায় ৯ বছর আগে তিনি যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য কলহ ও বনিবনা না হওয়ায় একপর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে মামুন ঝিকরগাছা উপজেলার অমৃতবাজার গ্রামের রিনা নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন। সেই সংসারও টেকেনি। প্রায় ছয় বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও তার বিচ্ছেদ হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্না বিশ্বাস জানান, নিজের দুই সংসার ভেঙে যাওয়ার জন্য মামুন তার মাকেই দায়ী করতেন। তার অভিযোগ ছিল, মায়ের কারণেই তার স্ত্রীরা সংসার করতে পারেননি। এ নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল এবং কয়েকবার মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুন মানসিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন এবং দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকতেন। প্রায় পাঁচ বছর পর বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে ফেরেন।
বিকেলে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে তার মাকে মাটিতে ফেলে ধারালো বটি দিয়ে গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মামুন বটি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবিসি/এমএনকে