ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মা এবং ছেলে উভয়েরই খেলার অনন্য এক রেকর্ড গড়লেন নিউজিল্যান্ডের জেনি বিনডন এবং তার ছেলে টাইলার বিনডন। চলমান বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে ইনজুরি টাইমে মাঠে নেমে ২১ বছর বয়সী ডিফেন্ডার টাইলার এই ইতিহাস তৈরি করেন। ২-২ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটি শেষে ছেলে যখন জেনির হাত ধরে বলেন যে তারা এটি করে দেখিয়েছেন, তখনই জেনি এই রেকর্ডের বিশালতা অনুভব করেন, যা পরে ফিফাও নিশ্চিত করে।
জেনি বিনডন নিউজিল্যান্ড নারী দলের হয়ে এক দশকের ক্যারিয়ারে ৭৭টি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ২০০৭ ও ২০১১ সালের নারী বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ ও ২০১২ সালের অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি নিউজিল্যান্ড নারী দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন। ২০০৫ সালে সিজারিয়ানের মাধ্যমে টাইলারের জন্মের মাত্র চার মাসের মধ্যেই জেনি মাঠে ফিরেছিলেন। ছোটবেলায় টাইলার তার মায়ের সাথে অনুশীলন ক্যাম্পগুলোতে যেতেন এবং নারী দলের খেলোয়াড়দের সাহচর্যে ও সহায়তায় বড় হয়ে ওঠেন।
মার্কিন বংশোদ্ভূত জেনি এবং তার স্বামী গ্রান্ট বিনডন বর্তমানে উত্তর আমেরিকায় অবস্থান করছেন ছেলেকে সমর্থন জানাতে। টাইলারের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয় ক্যালিফোর্নিয়ায় এলএএফসি একাডেমির হয়ে। এরপর তিনি ইংল্যান্ডের রিডিং ক্লাবে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নটিংহ্যাম ফরেস্টে চুক্তিবদ্ধ হন। সেখান থেকে ধারে পুনরায় রিডিংয়ে খেলে 'প্লেয়ার অফ দ্য সিজন' নির্বাচিত হন। দারুণ এই পারফরম্যান্স তাকে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে দেয়। বিশ্বকাপে ইরান এবং মিশরের বিপক্ষে তিনি মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন।
বর্তমানে নিউজিল্যান্ড দল বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে রয়েছে। দলের এই উন্নতির পেছনে খেলোয়াড়দের উচ্চ পর্যায়ের ক্লাবে খেলাকে কৃতিত্ব দেন জেনি। তিনি মনে করেন, ক্রিস উডের মতো খেলোয়াড়রা বিশ্বমঞ্চে দারুণ পারফরম্যান্স করে টাইলারের মতো তরুণদের জন্য সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছেন।
মাঠের বাইরের পরিবর্তন নিয়ে জেনি জানান, বর্তমানে ফুটবল ফেডারেশনগুলো খেলোয়াড়দের পরিবার এবং সন্তানদের প্রতি অনেক বেশি সহায়ক। আগে টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে তাকে তার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে আলাদা হোটেলে থাকতে হতো। তবে এখন নারীদের ফুটবলে মায়েদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে, যদিও তিনি মনে করেন এই ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। জেনির মতে, নারীদের মা হওয়ার পরও খেলায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে সঠিক সমর্থন দেওয়া হলে তা সব দেশেই ফুটবলের সার্বিক উন্নতি সাধন করবে।
সূত্র: ইএসপিএন
ডিবিসি/আরএসএল