আন্তর্জাতিক

মিশর সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, আবদেল ফাত্তাহ’র সঙ্গে বৈঠক আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কারণে মিশরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কার মধ্যেই এক দশক পর কায়রো সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। আজ দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কায়রো পৌঁছান সি চিনপিং। তার সঙ্গে রয়েছেন ফার্স্ট লেডি পেং লিয়ুয়ান। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসি ও ফার্স্ট লেডি এন্তেসার আমের।

 

বিমান থেকে নেমে সি ও পেং যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন লোকনৃত্য পরিবেশনকারী একটি দল তাদের স্বাগত জানায়। এ সময় দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরদের গায়ে ছিল সি চিনপিংয়ের ছবি সংবলিত টি-শার্ট।

 

সফরকালে দুই প্রেসিডেন্ট বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিক চুক্তিতে সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও তারা আলোচনা করবেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ বৈঠককে কাজে লাগিয়ে কায়রো তার কৌশলগত স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরতে চাইবে। এর মাধ্যমে মিশর দেখাতে চায়, ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে তারা নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাতে পারে।

 

মঙ্গলবার মিশরের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে সিসি কায়রোর  ‘স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি’ তুলে ধরেন। এর কয়েক দিন আগে মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকের একটি শাখার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

 

গত মাসে ওয়াশিংটন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। এজন্য আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়, যার আওতায় চীনা ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

চীন ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। বেইজিং জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

 

চলতি মাসে সি চিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। মিশর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অন্যতম বড় গ্রহীতা এবং ঐতিহাসিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ। গত সপ্তাহে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানকে সহায়তার অভিযোগে ‘ব্যাংক মিশর’-এর সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

 

মঙ্গলবারের নিবন্ধে সিসি লিখেছেন, ক্রমবর্ধমান মেরুকরণের এই বিশ্বে মিশর ও চীন ‘গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের ভূমিকা শক্তিশালী করার’ ক্ষেত্রে অংশীদার।

 

সিসির শাসনামলে মিশর বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। গত আগস্টে দেশটি চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বড় ধরনের যৌথ বিমান মহড়া আয়োজন করে। এতে চীনের শক্তিশালী জে-১৬ যুদ্ধবিমান অংশ নেয়।

 

২ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষের আবাসস্থল বিশাল নগরী কায়রোর প্রধান সড়কগুলোতে চীন ও মিশরের পতাকা এবং সিসি ও সি চিনপিংয়ের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে।

কায়রোর বিভিন্ন সড়কের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘মিশর-চীন বন্ধুত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নীল নদের মতো প্রবহমান।’ 

এদিকে, সি চিনপিংয়ের সফরকে কেন্দ্র করে রাস্তায় ব্যাপক যানজটের আশঙ্কায় নগরবাসীকে যাতায়াতের সময় দীর্ঘ বিলম্বের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে।

বুধবারের সফরে সি চিনপিংয়ের পুরো কায়রো শহর ঘুরে দেখার কথা রয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে গিজার পিরামিডের  কাছে অবস্থিত  গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামেও তিনি যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সকালের শীর্ষ বৈঠকে ব্রিকসের দুই সদস্য মিশর ও চীন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে বেশ কয়েকটি চুক্তিতে সই করতে পারে। এসব চুক্তির মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পরিবহন ও জ্বালানি খাত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

 

সিসির ১২ বছরের শাসনামলে নেওয়া বিশাল অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

কায়রো থেকে ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে নির্মিত আকাশচুম্বী ভবনসমৃদ্ধ ফাইন্যান্স অ্যান্ড বিজনেস ডিস্ট্রিক্টে চীন অর্থায়ন করেছে। এটি সিসির বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অন্যতম।

 

সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলও চীনের বড় বিনিয়োগের একটি ক্ষেত্র। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য যখন হুমকির মুখে, তখন সি ও সিসি এই অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করতে যাচ্ছেন।

 

চীন মিশরের অন্যতম বড় রপ্তানিকারক দেশ। চীনের শুল্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে মিসরের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার।

 

সূত্র: বাসস

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন